You are here
Home > অনলাইন ইনকাম > ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতা পাওয়ার জরুরি টিপস

ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতা পাওয়ার জরুরি টিপস

ব্লগিং

আপনি একটু খোঁজ নিলে দেখবেন এখনকার স্মার্ট ইয়াং ছেলে-মেয়েদের প্রায় সবারই একটা করে ইংরেজি না হলেও বাংলা ব্লগ সাইট রয়েছে। তারা যেহেতু প্রযুক্তি সম্পর্কে অনেক জ্ঞান রাখে, তাই তারা স্মার্ট ওয়েতে টাকা ইনকাম করে। নিঃসন্দেহে ব্লগিং করে টাকা ইনকাম একটি স্মার্ট ওয়ে এবং এটার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। যেহেতু এখন সবারই প্রায় ব্লগিং সাইট আছে এবং গুগলের অ্যালগরিদম ও দিন দিন আপডেট হচ্ছে তাই ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতা পাওয়া এখন অনেকটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি প্রথমেই বলেছি এখন অনেক যুবকই ব্লগিং ক্যারিয়ার কে বেছে নিয়েছে। আর তারা সব সময় hard work এর পরিবর্তে smart work করে। আপনি যদি কেবল গাঁধার মত খাটেন কিন্তু smartly work না করেন তাহলে ওইসব ইয়াং জেনারেশনদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। তাই নিচে ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতা পাওয়ার জরুরি কিছু টিপস তুলে ধরা হলো যেগুলো আপনি ফলো করলে ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতা ধরা দিবেই।

ব্লগ লিখে কিভাবে আয় করা যায়? তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে লিংক করা পোষ্টে।

ব্লগ লেখার জন্য রাইটার নিয়োগ দিনঃ

আপনি যদি মাসে ব্লগিং করে ১০,০০০ হাজার থেকে ৩০,০০০ টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে আপনি একাই ব্লগ লিখে আপনার ব্লগিং সাইটে পাবলিশ করতে পারেন। কিন্তু আপনার যদি ব্লগিং করে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করার ইচ্ছে থাকে তাহলে আপনার ব্লগ লেখার জন্য অবশ্যই একজন বা দুজন রাইটার কে হায়ার করতে হবে। যাতে আপনি প্রতিদিন একটা করে ব্লগ আপনার সাইটে পাবলিশ করতে পারেন। আপনি যত বেশি ব্লগ আপনার সাইটে পাবলিশ করতে পারেন তত বেশি অর্গানিক ট্রাফিক পাবেন এবং আপনার ইনকাম ও অধিক হবে। এইজন্যই আমি রিকমেন্ড করবো ব্লগিং ক্যারিয়ারে যদি আপনি সফলতা পেতে চান তাহলে একজন যোগ্য রাইটার হায়ার করুন। যে আপনাকে একটি ইউনিক আর্টিকেল প্রতিদিন লিখে দিতে পারবে। এক্ষেত্রে একদম ফ্রেশার রাইটারদের কে পরিহার করা উচিত। কেননা আপনার হাতে যদি এনাফ টাইম না থাকে তাহলে তাদের কে ঠিক মতো গাইড করতে পারবেন না এবং আপনার ওয়েবসাইট এর ব্লগগুলো খারাপ হয়ে যাবে। আর যদি আর্টিকেল এ ভালো ইনফরমেশন না থাকে তাহলে আপনার ট্রাফিক জেনারেট হবে না।



ইউটিউবে একটি চ্যানেল ওপেন করুনঃ

যে রাইটার কে আপনি হায়ার করেছেন সে যখন আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য আর্টিকেল লিখবে তখন এতে আপনার ২ভাবে লাভ হবে। প্রথমত আপনি সেই আর্টিকেল টা আপনার ব্লগ সাইটে পাবলিশ করছেন। দ্বিতীয়ত, আপনি সেই আর্টিকেলটি কে স্ক্রিপ্ট হিসেবে ব্যবহার করে আপনার ইউটিউবে ভিডিও কন্টেন্ট ক্রিয়েট করতে পারছেন। যেহেতু আপনার ইউটিউব এর ভিডিও গুলো আপনার ব্লগ সাইটের সাথে রিলেটেড তাই আপনি ভিডিওগুলো কে আপনার আর্টিকেল এর সাথে এমবেড করে দিন। যখন কেও আপনার ব্লগ টি পড়তে আসবে তখন ভিডিও লিংকে ক্লিক করে সহজেই সব ইনফরমেশন পেয়ে যাবে এবং আপনার ভিডিও তে ভিউ ও বাড়বে। এখানে আরও একটি লাভ হলো যখন ভিজিটরস আপনার ওয়েবসাইট এ ভিডিও দেখার মাধ্যমে অধিক সময় কাটাবে তখন আপনার ওয়েবপেজ এর বাউন্স রেট কমে যাবে। বাউন্স রেট কমার ফলে আপনার ওয়েবসাইট গুগলে ভালো র‍্যাংক করবে। আবার ইউটিউব এর ভিডিও আপলোড করার সাথে সাথে ভিডিও এর ডেসক্রিপশন বক্সে আর্টিকেল লিংক দিয়ে দিলেন। এতে আপনি আপনার ইউটিউব এর মাধ্যমে ট্রাফিক পেয়ে গেলেন। ইউটিউব এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট এর মার্কেটিং ও হলো। 

আপনার ব্লগিং সাইট কে ব্র‍্যান্ড হিসেবে তৈরি করুনঃ

ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতা পেতে হলে শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিনে ট্রাফিক জেনারেট করলেই হবে না। আপনার ব্লগিং সাইট কে একটি ব্র‍্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলুন, যাতে ব্লগিং সাইটের নামটিই তার পরিচিতি বহন করে।  ব্লগিং সাইট কে ব্র‍্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম উপায় হলো অধিক লোকের কাছে পৌঁছানো। অধিক লোকের কাছে আপনার সাইটটি কে পৌঁছাতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপনার ওয়েবসাইট এর ব্লগগুলো শেয়ার করুন। এছাড়া আপনি আপনার ব্লগে অবশ্যই ই-মেইল সাবস্ক্রিপশন বক্স ব্যবহার করবেন। এর ফলে লোকজন আপনার ব্লগের সাথে ই-মেইল এর মাধ্যমে কানেক্টেড থাকতে পারবে। আপনি যখনই আপনার ব্লগিং সাইটে আর্টিকেল পাবলিশ করবেন তখন আপনার ই-মেইল সাবস্ক্রাইবাররা নোটিফিকেশন পেয়ে যাবে। ফলে আপনি সার্চ ইঞ্জিন ছাড়াও ডিরেক্ট ই-মেইল এর মাধ্যমে ট্রাফিক পেয়ে গেলেন। এভাবে ছোট ছোট টেকনিকের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ব্লগিং সাইট এর পরিচিতি বাড়ান, একসময় এটি সবার কাছে একটি ব্র‍্যান্ড হিসেবে গড়ে উঠবে। 

কিভাবে টাকা ইনকাম করবেন তা নির্ধারণ করুনঃ

দেখুন, ওয়েবসাইট থেকে টাকা ইনকাম করার অনেকগুলো ওয়ে রয়েছে। আপনি কিভাবে টাকা ইনকাম করবেন তা প্রথমেই ফিক্স করে নেওয়াটা জরুরি। লক্ষ্য টা ফিক্স থাকলে সামনের দিকে এগিয়ে চলা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। আপনি যদি গুগল এডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে আপনার সেভাবেই সুন্দর করে আর্টিকেলগুলো কে সাজাতে হবে। আবার আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে শুরুতেই ভালো নিশ বাছাই করে ব্লগ তৈরি করতে হবে। আপনি যদি গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে কেবল লাভজনক কিওয়ার্ডগুলো খুঁজে বের করুন এবং আর্টিকেল লিখুন। রাইটার হায়ার করে আর্টিকেল লেখানোর ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, তারা যেন লো কোয়ালিটি আর্টিকেল আপনাকে প্রোভাইড করতে না পারে। লো কোয়ালিটি আর্টিকেল লিখলে গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে ভালো টাকা আপনি ইনকাম করতে পারবেন না। আপনার লক্ষ্য যদি হয় গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম তাহলে আমি রিকমেন্ড করবো সঠিক কিওয়ার্ড টি বাছাই করুন, তারপর ভালো রাইটার দিয়ে তথ্যবহুল আর্টিকেল আপনার ওয়েবসাইট এ পাবলিশ করুন। এতে আপনি মোটা টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

আপনার ব্লগিং সাইট এর প্রোমোশন করুনঃ

কথায় আছে “প্রচারেই প্রশার”। বর্তমানে যে সমস্ত অ্যাপস, ওয়েবসাইট কিংবা ভিডিও রাতারাতি মার্কেট দখল করে নিয়েছে তাদের হীডেন সিক্রেট হলো তারা তাদের অ্যাপস কিংবা ওয়েবসাইট এর প্রোমোশন চালিয়ে গেছে। এখন প্রোমোশন এর মাধ্যম হিসেবে সবাই অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো কে সবাই বেছে নেয়। আপনি ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম কে আপনার ব্লগের প্রোমোশনের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। আপনার ব্লগে কোনো আর্টিকেল পাবলিশ করার পর সেগুলো আপনি আপনার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলো তে শেয়ার করলেন, এতে আপনার ব্লগকে প্রমোট করা হলো। এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো তে আপনার ওয়েবসাইট প্রচার চালানোর জন্য কোনো টাকা খরচ করতে হবে না। এটা সসম্পূর্ণ ফ্রি। কিন্তু এখানে কিছু অসুবিধা আছে। আপনার প্রচার প্রচারণা সবার কাছে পৌঁছাতে নাও পারে। এক্ষেত্রে আপনি পেইড অ্যাডভারটাইজ কে বেঁছে নিতে পারেন। এতে আপনার টাকা খরচ হবে ঠিক কিন্তু এর বিপরীতে আপনি অনেক বেনিফিট পাবেন। অর্থাৎ মূল কথা হলো আপনি যেকোনো উপায়ে আপনার ওয়েবসাইট এর প্রোমোশন চালান।

হার্ড ওয়ার্ক এর পরিবর্তে স্মার্ট ওয়ার্ক করুনঃ

বর্তমান সময়ে ব্লগিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ংকর শব্দটার নাম হলো ” কম্পিটিশন”। তাই যে যত তথ্যবহুল এবং কনসিসটেন্সি বজায় রাখতে পারবে সে কম্পিটিশনে সবচেয়ে এগিয়ে যাবে। স্মার্ট ওয়ার্ক আপনি যেভাবে করতে পারবেনঃ-

  • প্রতিদিন ১টা করে আর্টিকেল পাবলিশ করুন। তবে তা না পারলে মাসে ১৫ টার কমে আর্টিকেল পাবলিশ করা যেন না হয়। সব সময় রেগুলারিটি মেইনটেইন করুন।
  • তথ্যবহুল, ইউনিক এবং ডেনসিটি ঠিক রেখে আর্টিকেল পাবলিশ করুন।
  • একা আর্টিকেল লেখা সম্ভব না হলে রাইটার হায়ার করুন।
  • কম্পিটেটিভ বেশি এরকম কিওয়ার্ড বাঁছাই করা থেকে বিরত থাকুন কেননা এগুলো গুগলে র‍্যাংক করাতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। ভেবে চিনতে কিওয়ার্ড বাঁছাই করুন।

এভাবে আপনি হার্ড ওয়ার্ক এর পরিবর্তে স্মার্ট ওয়ার্ক করুন। আর কাজ করার পূর্বে সবকিছুর প্ল্যানিং করে নিন।

কাজের ক্ষেত্রে কখনোই আজ নয় কাল করবো  বললে চলবে না। কারণ প্রতিদিন প্রায় ৫ মিলিয়ন আর্টিকেল পাবলিশ হচ্ছে। তাহলে আপনি যদি একদিন আর্টিকেল পাবলিশ করা বাদ দেন তাহলে ভাবুন আপনি কত লোকের পেছনে পরে গেলেন। তাই ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতা পেতে চাইলে উপরের পয়েন্টগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং মেনে চলুন তাহলে অবশ্যই সফলতা পাবেন এবং কাজ করার পূর্বে কাজের সমস্ত প্ল্যানিং করে নিন।

Facebook Comments
Top