You are here
Home > ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার > আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য উপযুক্ত কি না, কিভাবে বুঝবেন?

আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য উপযুক্ত কি না, কিভাবে বুঝবেন?

ফ্রিল্যান্সিং

বর্তমানে  মানুষ এই করোনার প্রাক্কালে ঘর বন্দী হয়ে সময় পার করছে। কেও বা এই সময় তার চাকরি হারিয়েছে আবার কেও বা ঘরের ভেতর বন্দী জীবন-যাপনে বোরিং ফিল করছে। আবার ইন্টার মিডিয়েট, অনার্স-মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্র/ছাত্রীরাও তাদের টিউশনি হারিয়েছে। তাই এ সময়টাতে যে একজন চাকরিজীবি তার পরিবারের জীবিকার জন্য বাইরে গিয়ে একটা চাকরি খুজবে তার ও কোনো উপায় নেই। আবার স্টুডেন্টরা ও বাইরে যেতে পারছে না। এমন অবস্থায় অনেকেই হারিয়েছে তাদের উপার্জন এর একমাত্র অবলম্বন। তাই তারা এখন ফ্রিল্যান্সিং করার দিকে কড়া নজর দিচ্ছে। সবাই ভাবছে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করব? শুধু ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলেই করা যায়না। ফ্রিল্যান্সিং করে লাক্ষ লাক্ষ টাকা ইনকাম করা যায় ঠিকই কিন্তু সবাই তা পারে না। এজন্য দরকার আপনার নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং পেশায় ঢুকতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে বুঝতে হবে আপনি এই পেশার জন্য কতটা উপযুক্ত। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য উপযুক্ত না হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে এই পেশার জন্য নিজেকে উপযুক্ত করে তুলতে হবে। আপনি যদি বুঝতে না পারেন আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য উপযুক্ত কি না তাহলে এই আর্টিকেল টা পড়ে দেখুন। আর্টিকেল টা মুলত একটি গাইড লাইন, যা পড়ার ফলে আপনি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবেন আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য উপযুক্ত কি না। এবং জানতে পারবেন ফ্রিল্যান্সিং করার আগে আপনার মধ্যে কি কি থাকতে হবে?

আপনি যে ক্যাটাগরির-ই ফ্রিল্যান্সার হোন না কেন, আপনি তখনই বুঝবেন আপনি কাজটার জন্য কতটা উপযুক্ত যখন দেখবেন আপনি কাজ টা ঠিক মতো করছে পারছেন । ধরুন, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছেন মার্কেটপ্লেস এ। এখন ওয়ার্ডপ্রেস এর বিভিন্ন ধরনের কাজ আছে যেমন কাস্টমাইজেশন, থিম ডেভেলপমেন্ট, বাগ ফিক্সিং ইত্যাদি। আপনি যদি কাস্টমাইজেশন নিয়ে কাজ করতে যান তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে আপনি কাস্টমাইজেশন নিজে নিজে কত টুকু করতে পারেন। আপনি যদি খুব ভালো কাস্টমাইজেশন নিয়ে কাজ করতে পারেন তাহলে আপনি যে কোনো ক্লায়েন্ট এর সাথেই ভালো ভাবে কাজ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করার উপযুক্ত।

আপনি যদি বলেন, “আমি যে কাজের জন্য উপযুক্ত এটা কি করে ইনশিওর হবো?” তাহলে আমি বলবো আপনি বিভিন্ন ধরনের মার্কেটপ্লেস এ আপনার নামে এ্যাকাউন্ট খুলুন। এ্যাকাউন্ট খুলতে তো ভাই টাকা লাগেনা। তাই ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ডট কম এ নিজের নামে আজ-ই এ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করে ফেলুন। কিন্তু এখানে আমার পারসোনাল একটা এ্যাডভাইজ হলো আপনি প্রথমেই আপনার এ্যাকাউন্ট এ গিগ প্রকাশ করবেন না। আগে দেখুন অন্যান্য ফ্রিল্যান্সার রা কিভাবে তাদের গিগ সাজায়, তারা তাদের জব পোস্ট কিভাবে পাবলিশ করে। প্রথমে তাদের কে দেখে শিখুন, ধারণা নিন। অর্থাৎ আপনি আপনার স্পেসিফিক ফিল্ড এ ঘোড়া ঘুড়ি অথবা রিসার্চ করে আইডিয়া নিন ক্লায়েন্ট কি ধরনের কাজ চাচ্ছে।



আপনি ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশন নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন, তাহলে আপনি দেখুন ক্লায়েন্টরা কি ধরনের কাস্টমাইজেশন চাচ্ছেন। কেও হয়তো বা ডিভি দিয়ে কাস্টমাইজেশন চাচ্ছে, আবার কেও হয়তো বা এ্যাভাডা দিয়ে কাস্টমাইজেশন চাচ্ছে। এরকম বিভিন্ন ধরনের কাস্টমাইজেশন আপনার কাছে চাইতে পারে। তো আপনাকে দেখতে হবে কি ধরনের কাস্টমাইজেশন ক্লায়েন্ট রা চায় এবং এই ধরনের কাস্টমাইজেশন আপনি ক্লায়েন্ট দের কে প্রভাইড করতে পারেন কি না। যদি পারেন তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য উপযুক্ত। ধরুন আপনি একটি কাজ ৯৪% পারেন সে ক্ষেত্রে আপনার উচিৎ হবে আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সিং এ গিগ দেওয়া। আপনি যখন অর্ডার টা পাবেন তখন কনফার্ম করুন কারণ আপনি যখন একটি কাজ এর ৯৪% পারবেন তখন কাজ টি করতে করতে বাকি ৫-৬% ও শিখে নিতে পারবেন। 

অন্যদিকে আপনি যদি মাত্র ৪০-৪৫% কাজ শিখে মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে আসেন তাহলে আপনি বিরাট ধরনের ধরা খেতে যাচ্ছেন। মাত্র ৪০-৪৫% কাজ শিখে আপনি যদি ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে অর্ডার কনফার্ম করেন তাহলে যখন ক্লায়েন্ট কে কাজ টা করে দিবেন তখন তো কাজ টা ভালো হবেই না বরং ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইল এ ব্যাড রেটিং দিয়ে দিবে। একটা ব্যাড রেটিং আপনার প্রোফাইল এর জন্য অনেক কিছু। যখন নতুন কোন ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইল দেখবে তখন ব্যাড রেটিং দেখে আপনার প্রতি প্রথমেই ব্যাড ইম্প্রেশন তৈরি হবে। যা আপনার ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য খুব ক্ষতিকর। তাই প্রথমে কাজ শিখে তারপর মার্কেটপ্লেসে কাজ করুন।

এ তো কেবল কাজের কথা গেলো, কাজ পারলেই কি সবাই ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে পারে? মোটেই না। তাহলে কোন গুন লাগবে আপনার ভাবুন। ইয়েস, আপনি ধরতে পেরেছেন। আপনার বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু ইত্যাদি ভাষায় কথা বলার মত ন্যূনতম জ্ঞান থাকতে হবে। আপনি যদি ইংরেজি, হিন্দি তে কথাই বলতে না পারেন তাহলে বিদেশি ক্লায়েন্ট আপনাকে কি বোঝাতে চাচ্ছে, তার কেমন রিকুয়্যারমেন্ট আপনি কিছুই বুঝবেন না। ফলে আপনি তাদের থেকে কোনো অর্ডার পাবেন না। আর আপনি যদি ভাবেন ফাইভার এ বাংলা ভাষা-ভাষী মানুষের কাছ থেকে কাজ নিবেন তাহলে আপনি মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন এর কাছ থেকে কাজ পাবেন। যা আপনাকে ফ্রিল্যান্সার হতে নিরুৎসাহিত করবে। খুব বেশি ভাষা যে জানতে হয় এমন টা না। তবে মোস্ট ইম্পর্টেন্ট হলো ইংরেজি ল্যাংগুয়েজ এ কথা বলতে পারা। সবাই ভাবে যে “আমি তো ইংরেজি গ্রামার এ বরাবরই দুর্বল, কিভাবে একজন বিদেশি ক্লায়েন্ট এর সাথে কথা বলবো”? এখানেই সবার ভুল ধারণা থেকে ভীতি টা জন্মায়। আপনাকে বুঝতে হবে ইংরেজি একটা ভাষা। এখানে কথা বলতে গেলে কোনো গ্রামারটিকাল রুলস লাগে না। আমাদের ভাষা যে বাংলা, বাংলায় কথা বলার সময়, নিজের আবেগ কে প্রকাশ করার সময় আমরা কি কোনো ব্যাকরণ এর নিয়ম মেনে কথা বলি? কখনোই না। ইংরেজি ভাষার ঠিক এমনই। আপনি আপনার ক্লায়েন্ট কে কি বুঝাতে চাচ্ছেন সেটাই মোস্ট ইম্পর্টেন্ট। আপনার ক্লায়েন্ট যদি আপনার কথা বুঝতে পারে তাহলে বুঝবেন আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য উপযুক্ত।

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য ইংরেজি শেখার গুরুত্ব ও শেখার উপায় সব কিছুই আছে লিংক করা পোষ্টে।

 

আর ও একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে তা হলো টেকনোলজি সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান। বর্তমানে ছোট মানুষেরাই ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারে কারণ যুগ এখন পাল্টেছে। আপনার বয়স যদি ৩০ এর উপরে হয় তাহলে ল্যাপটপ, কম্পিউটার নিয়ে জড়তা থাকতে পারে। ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আশার আগে আপনাকে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ এর সবকিছু জানতে হবে। ল্যাপটপ এর আদ্যোপান্ত জানার ফলে আপনার ক্লায়েন্ট এর কাজ করার সময় কোথাও দৌড়াতে হবে না। ল্যাপটপ চালানোয় এক্সপার্ট হওয়ার পর কিভাবে একজন ক্লায়েন্ট এর অর্ডার কনফার্ম করতে হয়, কিভাবে প্রফেশনালি ক্লায়েন্ট এর সাথে কথা বলতে হয় তা শিখে নিতে হবে। মনে রাখবেন একজন ক্লায়েন্ট এর কাছে আপনার স্মার্টনেস, কনফিডেন্স, প্রফেশনাল কথা বার্তা অনেক ইম্পোর্টেন্ট। সে যেহেতু আপনাকে আগে থেকে চেনে না তাই আপনার ফরমাল বিহেব দেখে সে কাজ টা আপনাকে দিয়ে করাতে ভরসা পাবে। এই গুন গুলো আপনার ভেতর থাকলে আপনি বুঝবেন যে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করার উপযুক্ত।

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য বেসিক কম্পিউটার জানা কতটা জরুরী? সেই সকল প্রশ্নের উত্তর পাবেন এখানে।

 

উপরে কিছু বেসিক পয়েন্ট তুলে ধরা হয়েছে এটা বোঝানোর জন্য আপনি ফ্রিল্যান্সিং পেশার জন্য উপযুক্ত কি না। উপরে উল্লেখিত পয়েন্টগুলো যদি আপনার ভেতর বিদ্যমান থাকে তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য একদম উপযুক্ত। তাই দেরি না করে কনফিডেন্সের সাথে আজই কাজে লেগে পড়ুন। মনে রাখবেন, প্রতিযোগিতা মূলক এই প্ল্যাটফর্মে যারা দক্ষ একমাত্র তারাই টিকে থাকে।

Facebook Comments
Top