You are here
Home > ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার > উদ্যোক্তা হতে কী কী প্রয়োজন?

উদ্যোক্তা হতে কী কী প্রয়োজন?

উদ্যোক্তা হবো কিভাবে

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেকারত্ব অন্যতম বড় একটি সমস্যা। এর ফলে দেশের সার্বিক উন্নতি একদিকে যেমন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ঠিক তেমনি ব্যক্তিজীবনে অগ্রগতির অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে বিরাট সংখ্যক স্নাতক বেকারত্বের কালো ছোবলে দংশিত হচ্ছে। কিন্তু আশার আলো বুকে জিইয়ে রেখে স্রোতের বিপরীতে চলে কেউ কেউ আবার নিজেই কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করছে। প্রথাগত বেড়াজালকে ভেঙে, নানান বাঁধা অতিক্রম করে নিজের দক্ষতা, সৃজনশীলতা, পরিশ্রমের সমন্বয়ে সমাজে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে তাঁরা। সাফল্যের মুকুট যেমন পড়ছে অনেকে ঠিক তেমনি তাঁর বিপরীতে মুখ থুবড়ে পড়ার হারটাও কিন্তু কম নয়। তবে যথাযথ দিকনির্দেশনা এবং একটু সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই কিন্তু পারে আপনাকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে।

“বিনা খরচে ১০ টি লাভজনক অনলাইন আয়ের আইডিয়া পেতে এই পোষ্টটি পড়ে নিতে পারেন”

 

তবে জেনে নেওয়া যাক, একজন উদ্যোক্তা হতে হলে যা যা প্রয়োজনঃ

প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুণ

একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চাইলে প্রথমেই আপনি কোন বিষয়ে বেশি দক্ষ কিংবা আপনার অভিজ্ঞতা আছে তা খুঁজে বের করুন। এবং সেই সাথে দেখুন আপনি যে বিষয়টি নিয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাড় করাতে চাচ্ছেন সেই বিষয়টি নিয়ে আপনার আগ্রহ, উৎসাহ রয়েছে কিনা।

আপনি আপনার দক্ষতার ক্ষেত্র এবং আপনার আগ্রহের বিষয়টি যাচাই করে ফেলার পর আপনার ব্যবসার একটি রূপরেখা আপনাকে টানতে হবে। অর্থাৎ আপনার কল্পিত ব্যবসার বাস্তবিক রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। মোদ্দাকথা আপনি যে সেবা বা পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতে আগ্রহী সেই ব্যবসার ভবিষ্যৎ কিরকম, গ্রাহক গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা এসব ব্যাপারে  ভাবনা – চিন্তা বা গবেষণা করতে হবে।

এরপর আপনি যেরূপ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করবেন বলে ভাবছেন সেটি চালানোর জন্য আপনার যথেষ্ট দক্ষতা আছে কি না এ বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। একজন উদ্যোক্তার ভিতর একজন কর্মকর্তার তুলনায় অনেক বেশি গুণাবলি থাকা প্রয়োজন। যেমন, বিনিয়োগকারীর যোগান, সময় ব্যবস্থাপণা, অর্থ ব্যবস্থাপণা, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা সহ প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী এবং প্রয়োজনভেদে নানাবিধ গুণাবলীর সমন্বয় থাকা প্রয়োজন একজন উদ্যোক্তার। এছাড়াও সবচেয়ে বেশি যে জিনিষটা প্রয়োজন তা হলো নিজেকে নিজে অনুপ্রেরণা দেওয়ার ক্ষমতা। অর্থাৎ একজন নতুন উদ্যোক্তার অনেক চড়াই-উতরাই সময় যায় এই সময়ে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার মানসিকতা একজন উদ্যোক্তার থাকতে হবে। তাই এসব দিক বিবেচনায় এনে আপনি সামনে পা বাড়াবেন।



 

ব্যবসার পরিকল্পনা

আপনি ছোট কিংবা বড় যে ধরনেরই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেওয়ার কথা ভাবুন না কেন ব্যবসার পরিকল্পনা অত্যন্ত প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা আপনার প্রতিষ্ঠানের কাজকে ত্বরান্বিত করবে। এবং আপনাকে সময়োপযোগী এবং উৎকৃষ্ট সিদ্ধান্তটি নিতে সর্বোপরি সহায়তা করবে। এছাড়াও আপনি বুঝতে পারবেন আপনার সীমাবদ্ধতা কিংবা দূর্বলতাগুলো কি কি। তাই আর বলার অপেক্ষা রাখে না একজন উদ্যোক্তার জন্য ব্যবসার পরিকল্পনা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ।

নানাবিধ বিষয় বিশ্লেষণ কিংবা পর্যালোচনা করে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবসার পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে পারেন। ব্যবসার পরিকল্পনাটি অবশ্যই সুনির্দিষ্ট এবং সুশৃঙ্খল ভাবে প্রস্তুত করবেন। আপনার উদ্দেশ্য, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য, আপনার মোট মূলধনের পরিমাণ, কাঙ্ক্ষিত আয়ের পরিমাণ এবং তা অর্জনের সময়সীমা ইত্যাদি বিষয়াদিও ব্যবসার পরিকল্পনার ভিতর সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করবেন। এছাড়াও আপনার পণ্য বা সেবার ধরন উল্লেখপূর্বক সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের কাছে কতটুকু সে বিষয়ও বিবেচনায় আনতে হবে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, ব্যবস্থাপনা কৌশল, বিপণন কৌশল, কর্ম পরিকল্পনা ইত্যাদি খুটিনাটি নানাবিধ বিষয় বিবেচনায় এনে একটি অর্থবহ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রস্তুত করবেন।

 

মূলধন

যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। আপনার ব্যবসার সামগ্রিক ব্যয় সহ বিবিধ বিষয় বিবেচনাপূর্বক নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনার ব্যবসা পরিচালনার জন্য কতটুকু মূলধন আপনার প্রয়োজন। মূলধন নির্ধারনের ক্ষেত্রে সরঞ্জামাদির ব্যয়, বিপণন ব্যয়, ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ব্যয় অর্থাৎ মোট বিনিয়োগ ব্যয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। এবং সর্বোপরি খেয়াল রাখতে হবে যে, বিভিন্ন ব্যয় যাতে যতটা সম্ভব কৌশল অবলম্বন করে কমিয়ে আনা যায়। অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় থেকে সাবধান থাকতে হবে।

আপনি আপনার সঞ্চিত অর্থের সাথে ব্যবসার ধরনের সামঞ্জস্যতা রেখে মূলধন নির্ধারণের দিকে খেয়াল রাখবেন। এছাড়াও যদি আপনার সঞ্চিত অর্থ পর্যাপ্ত মূলধনের যোগান দিতে না পারে তবে আপনার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও সরকারী-বেসরকারী ব্যাংক কিংবা এনজিও গুলো থেকে একটি নির্ধারিত মুনাফার বিনিময়ে মূলধন সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়াও নতুন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প উদ্যেগ অর্থাৎ SME (Small and Medium Enterprise) ঋণ সহায়তা প্রদান করে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন এঞ্জেল ইনভেস্টরদের থেকে ও ফান্ড যোগাড় করতে পারেন।

 

টিম তৈরী

আপনার প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্য নির্ভর করছে বিভিন্ন ক্ষেত্রের কর্মকর্তা – কর্মচারীর দলগত কাজের উপর। আর আপনার প্রতিষ্ঠানের সকল লোকজনের মধ্যে যদি সমন্বয় সাধন করা যায় তবে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ক্ষমতা কিংবা সফল হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি হারে বৃদ্ধি পাবে। তাই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার প্রতিষ্ঠানের সকল সদস্যদের সমন্বিত করে কাজের জন্য উৎসাহিত করতে হবে।

এছাড়া ও আপনার কর্মীদের দক্ষতার ক্ষেত্রসমূহ বুঝে উপযোগী কাজটিই তার জন্য নির্ধারণ করতে হবে। এজন্য আপনি যখন আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মকর্তা – কর্মচারী নিয়োগ করবেন সেই সময় তাঁদের উৎসাহ-আগ্রহ, কর্মদক্ষতা, দলগত কাজ করার মানসিকতা এসব দিক বিবেচনায় এনে আপনার প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করবেন।  আপনি আপনার চিন্তাভাবনার সাথে মিল খুজে পান এমন মানুষের সাথে অংশীদারিত্ব হিসেবেও যেতে পারেন। আর এই অংশীদার নির্বাচনে অবশ্যই সমমনা, সৃজনশীল এবং কর্মস্পৃহা সম্পন্ন মানুষটিকে বেছে নিবেন।

 

স্থান নির্বাচন

প্রায় সব ধরনের ব্যবসার সার্বিক সাফল্যের প্রায় অনেকখানিই নির্ভর করছে ঐ প্রতিষ্ঠানটির স্থান নির্বাচনের উপর। ব্যবসার উন্নতি কিংবা অবনতির উপর স্থানের প্রভাব অনেকাংশে বেশি। বলা যায়, আপনার প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্ষমতা তথা ভবিষ্যত নির্ভর করছে প্রতিষ্ঠানটির স্থানের উপর।

তাই এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির জন্য সঠিক স্থান নির্বাচন কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার গ্রাহকদের কথা সর্বপ্রথম বিবেচনায় আনতে হবে। এমন একটি স্থান নির্বাচন করতে হবে যেখানে আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের পাওয়া যাবে। এবং সেই সাথে খেয়াল রাখতে হবে আপনার টিমমেট তথা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্থানটি যথোপযুক্ত কিনা। এছাড়াও সহজে যাতায়াত করা যায়, মানুষের আনাগোনা বেশি এসব দিক বিবেচনায় এনে স্থান নির্বাচন করতে হবে। আপনার প্রতিষ্ঠানটি যদি শুধু অনলাইনভিত্তিক সেবা প্রদান ও করে থাকে সেক্ষেত্রেও স্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। অর্থাৎ আপনার পণ্য গুলো কোথা থেকে ডেলিভারী হবে, হিসাব সংরক্ষণ কোথায় হবে কিংবা কোথায় গুদাম করে বাজারজাত করা হবে এসব ব্যাপার গুলোর জন্যও আপনার প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

 

নাম নির্ধারণ

ব্যবসার ধরন অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ নামটি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্বাচন করতে হবে। আপনার প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক সফলতার অনেকখানি কিন্তু এই নামের উপরেও নির্ভর করবে। যেমন, কোনো গ্রাহক যখন আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য বা সেবা নিয়ে তৃপ্তি লাভ করে অর্থাৎ সন্তুষ্ট হয়, তখন সে কিন্তু আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে তাঁর পরিচিত মানুষজনের কাছে সুনাম করবে। এবং তাঁর পরিচিত সেইসকল মানুষগুলোকে আপনার পণ্য বা সেবা নেওয়ার জন্য প্রভাবিত করবে।

আর যদি আপনার প্রতিষ্ঠানটির নাম কাঠখোট্টা বা উচ্চারণগত ভাবে জটিল হয় তবে কিন্তু এভাবে মানুষের মুখে মুখে আপনার প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ছড়ানোটা সম্ভবপর হবেনা। এছাড়াও ব্যানার, সাইনবোর্ড, বিজনেস কার্ড, ওয়েবসাইট, প্রচার সামগ্রী সব ক্ষেত্রেই আপনার প্রতিষ্ঠানটির নাম ব্যবহার করতে হবে। মোটকথা আপনার প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পরিচিতিই কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির নাম। তাই আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য এমন নাম নির্বাচন করতে হবে, যা উচ্চারণে সহজ, অর্থবহ এবং পছন্দনীয়। এবং এই নামটি যেন আপনি যে পণ্য বা সেবা দিচ্ছেন তাঁরই  প্রতিচ্ছবি হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।

 

ওয়েবসাইট তৈরী করুন

বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় সব ধরনের ব্যবসা – প্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব একটা ওয়েবসাইট থাকা অত্যাবশ্যক। গ্রাহকদের কাছে আপনার সেবা, পণ্য বা কার্যাবলী সম্বন্ধে স্পষ্ট ও সহজ ভাবে জানাতে ওয়েবসাইটের বিকল্প নেই। একটি আকর্ষণীয় এবং পেশাদারিত্ব পূর্ণ ওয়েবসাইট গ্রাহকদের মনে আপনার প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও আপনার ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে বিশাল পরিসরের মানুষের কাছে আপনার সেবা কিংবা পণ্য সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যের প্রচার-প্রসার ঘটাতে পারবেন। তাই আপনার প্রতিষ্ঠানটির ধরন অনুযায়ী একটি ওয়েবসাইট তৈরী করুন। এতে করে আপনার ব্যবসার পরিধিটাও সীমাবদ্ধ থাকবেনা।

আপনি দেশের যে কোনো প্রান্তে আপনার পণ্য বা সেবাটি পৌঁছে দিতে পারবেন কিংবা প্রচার-প্রসার ঘটাতে পারবেন। এছাড়াও আপনার পণ্যের প্রদর্শন করতে পারবেন ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে। আপনি এজেন্সি কিংবা ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস থেকে দক্ষ ওয়েব ডেভেলপারের খোজ করে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময় ওয়েবসাইটটি তৈরী করতে পারেন। এবং প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কন্টেন্ট প্রদান, তথ্যাদি আপডেট রেখে ওয়েবসাইটটিকে সচল রাখতে হবে। আর ওয়েবসাইটটিতে আপনার প্রতিষ্টানের অফিসের ঠিকানা, ইমেইল এড্রেস, ফোন নাম্বার সহ আপনার প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, লিংকডইন ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর লিংক সংযুক্ত করে দিবেন। যেন গ্রাহকরা খুব সহজেই আপনার প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি খুজে পেতে পারে।

 

ট্রেড লাইসেন্স

আপনার প্রতিষ্ঠানটি যেধরনেরই হোক কিংবা যেকোনো পণ্য বা সেবাদানকারীই প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন আপনার প্রতিষ্ঠানটির জন্য ট্রেড লাইসেন্স থাকা অত্যাবশ্যক। ট্রেড লাইসেন্স হচ্ছে আপনার প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা প্রদানের অনুমতি পত্র। তাই আপনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটির বৈধতার প্রমাণস্বরূপ ট্রেড লাইসেন্স থাকা আবশ্যক। এছাড়াও আপনার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের প্রসার ঘটানোর জন্য কখনো যদি ব্যাংক লোনের প্রয়োজন পড়ে তখন ব্যাংক কে আপনার প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে হবে। আপনার প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা বণিক সমিতির সদস্য হতে হলেও ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে। তাছাড়াও অংশীদারিত্ব চুক্তি, ভ্যাট কিংবা টিন সার্টিফিকেট সহ ব্যবসা সংক্রান্ত খুটিনাটি নানান কাজে ট্রেড লাইসেন্স দরকার।

আপনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে সিটি করর্পোরেশন, পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারেন। ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে মূলত আপনার প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি মূলত প্রতিষ্ঠানভেদে পাঁচশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়াও টিন কিংবা ভ্যাট সার্টিফিকেট সহ প্রয়োজনীয় নানাবিধ কাগজপত্র সংগ্রহে রাখতে হবে।

 

সামগ্রিক বিষয়

প্রচলিত একটা কথা আছে যে, Customer is always king. মোদ্দাকথা আপনার ব্যবসার প্রাণভোমরাই হচ্ছে আপনার গ্রাহক। তাই গ্রাহকের মতামত যেমন গুরুত্বের সাথে দেখবেন, ঠিক তেমনি গ্রাহকদের মনোভাবও বুঝার চেষ্টা করবেন। কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে আপনার প্রতিষ্ঠানের সেবা বা পণ্যটিকে বাজারজাত করতে হবে। আপনার গ্রাহকদের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রাখার পাশাপাশি আপনার প্রতিযোগিদের কথাও বিবেচনায় আনতে হবে। প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই সময়ে টিকে থাকতে হলে নিজেকে এবং নিজের প্রতিষ্ঠানকে সময়ের তালে এগিয়ে যেতে হবে। সময়ের চেয়ে পিছিয়ে পড়লেই হোচট খাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এছাড়াও আপনার প্রতিষ্টানটি পণ্য কিংবা সেবার গুণগত মান সর্বদা উৎকৃষ্ট রাখতে হবে এবং সর্বোপরি পরিবর্তনে বিশ্বাসী হতে হবে।

পরিশেষে আলোচ্য দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আপনি নিজেকে যাচাই করে নিন এবং একজন উদ্যোক্তা হতে হলে যেসব গুণাবলী দরকার সেগুলোর উন্নতি করার চেষ্টা করুন। অতঃপর আপনার নিজের উপর বিশ্বাস এবং সার্বিক দিক বিবেচনায় এনে আপনার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটির বাস্তবিক রূপদান করুন। এবং সর্বোপরি সফল উদ্যোক্তার খাতায় নিজের নাম লেখিয়ে দেশের সার্বিক উন্নতিতে ভূমিকা রাখুন।

Facebook Comments
Top