You are here
Home > অনলাইন ইনকাম > সৃজনশীল উদ্যোক্তা হয়ে ঘরে বসেই আয় করুন

সৃজনশীল উদ্যোক্তা হয়ে ঘরে বসেই আয় করুন

উদ্যোক্তা

 

আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্থিতিশীলতা, প্রচেষ্টা, একটি নির্দিষ্ট লিখিত উদ্দেশ্য এবং তার গঠনপ্রণালীর উপর ভিত্তি করে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন সৃজনশীল উদ্যোক্তা। উদ্যোক্তা হয়ে ঘরে বসেই আয় করতে পারেন লাখ লাখ টাকা। চাইলে একজন ব্যক্তি যেকোনো সময় নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলে এই সেক্টরে সফল হতে পারে। অন্যদের যেসব ব্যবসা আপনাকে আকর্ষণ করে, সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে বুঝে কাজে নামলে এবং নিজের প্যাশনকে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় থাকলে আপনিও পারবেন! এক্ষেত্রে কিছু টিপসের প্রয়োজন আছে। এই টিপসগুলি নিয়েই আজ আমরা আলোচনা করতে চলেছি।

 

উদ্যোক্তা কাকে বলে?

কোনো ব্যক্তি যখন নিজের একটি নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে কোনো চাকরি বা কারো অধিনস্ত না থেকে নিজ থেকেই কোন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার চেষ্টা করে তখন তাকে উদ্যোক্তা বলে। চাকরি হারিয়ে একজন ব্যক্তি যখন নিজের কর্মসংস্থানের চিন্তা করে কারো অধীনস্থ বরণ করে নিতে প্রস্তুত সেখানে একজন উদ্যোক্তা নেমে পড়ে নিজের একটি বিজনেস প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কাজে।

যদি এই সেক্টরে বেশিরভাগ প্রজেক্টই প্রথম জীবনে ক্ষুদ্র ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয়। তবে শেষ হয় বিশাল একটি সফলতার মাধ্যমে। উদ্যোগ যে কোনাে বিষয়ের ব্যাপারেই সহজে নিতে পারলে বিজনেসের ব্যাপারে অনেকে দু-টানা কিংবা নানান সমস্যায় ভুগে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হতে পারা কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়। নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সমাজের আরও কয়েকজনের কর্মসংস্থানের চিন্তা করা কঠিন কাজ বলেই এর ফলাফলটাও অসম্ভব সফলতা বয়ে আনতে সক্ষম। কিভাবে? জানতে হলে পুরো আর্টিকেলের সাথেই থাকুন।



 

উদ্দোক্তা কারা? উদ্যোক্তা কাকে বলে

উদ্যোক্তা হলো তারাই যারা নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সমাজের আরও কয়েকজনের কর্মসংস্থানের চিন্তা করে নিজের খরচে একটি বিজনেস প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে। এতে সমাজের আরও কয়েকজনের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি থাকে একটি বিশাল অংকের এমাউন্ট উপার্জন। একজন উদ্যোক্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুঁজি হয়ে উঠে তার নিজের দৃঢ় মনােবল, কঠোর অধ্যবসায় ও কর্মপ্রচেষ্টা। যা তাকে সফল উদ্যোক্তায় রূপান্তরিত করতে শতভাগ সাহায্য করে৷

 

উদ্যোক্তা ব্যবসা কি?

অনেকেই উদ্যোক্তা এবং উদ্যোক্তা ব্যবসাকে এক মনে করেন। যা একেবারেই ভুল ধারণা। উদ্যোক্তা যেকোনো ধরণের কাজ নিয়ে নিজেদের যাত্রা শুরু করতে পারে। কিন্তু উদ্যোক্তা ব্যবসা করতে হলে আপনাকে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট বিজনেসের দিকে ফোকাস করতে হবে। সম্পূর্ণ পরিকল্পনাকে এমনভাবে ভাগ করে নিতে হবে যাতে আপনার সেই প্রোডাক্ট বা সার্ভিস দিনশেষে সেল হয় এবং আপনার সেই সেলিং প্রজেক্টই হবে আপনার অন্যান্য কর্মীদের কর্মসংস্থান।

 

নারী উদ্যোক্তা বলতে কি বোঝায়?

নারী উদ্যোক্তা বলতে সেসব নারীকেই বোঝায় যারা স্রোতের বিপরীতে হেঁটে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চায় বা দেখতে সম্ভব হয়েছে। দেশ-বিদেশের সকল ব্যবসায় উদ্যোক্তার জীবনী যাদের মুগ্ধ করলেও বিভিন্ন বাঁধা পেরিয়ে যাদের সামনে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগুতে হয়।

 

নতুন উদ্যোক্তা কিভাবে সৃষ্টি হয়?

নতুন উদ্যোক্তাকে সঠিকভাবে আবির্ভাব ঘটাতে নিজের মতো করে কিছু শুরু করার, নিজের একটি নতুন উদ্যোগ তৈরি করার মানসিকতা সৃষ্টি করানো চাই। যা প্রজন্মের মধ্যে বেশ দেখা যাচ্ছে। তবে অনেকেই ঝড়েও পড়ছে। তার একটাই কারণ! আর সেটি হলো অতি লোভ! সময় না নিয়ে, কাজকে সময় না দিয়ে অনেকেই চূড়ায় উঠতে চায় বলেই এই পরিস্থিতি। তবে নতুন উদ্যোক্তারা চাইলেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল হতে পারে। চলুন জেনে নিই নতুন উদ্যোক্তা কিভাবে সৃষ্টি হয় সে-সম্পর্কে।

  • কারো অধীনে চাকরি করার মন-মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমার মাধ্যমে।
  • সম্পূর্ণ নিজের মতো করে নতুন কোনো উদ্ভাবনে মনোযোগী হওয়ার মাধ্যমে।
  • কোনো উদ্যোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে কাজে নামার মধ্য দিয়ে৷
  • মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে সঠিক রিসার্চের মাধ্যমে একটি প্ল্যান সেটআপে মনোযোগী হওয়ার মাধ্যমে।
  • অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে আগে কাজ করে সেই অভিজ্ঞতার হাত ধরে আগানোর সাহায্যে।
  • ব্যবসার বৈধ কাগজপত্র তৈরি করে সরাসরি কাজের নামার মন-মানসিকতা প্রস্তুত করার মাধ্যমে।

 

উদ্যোক্তা হতে কী কী প্রয়োজন? জানতে পড়ুন

 

উদ্যোক্তা হওয়ার উপায়

এবার আমরা জানবো উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন সত্যি করতে চাইলে কি কি করতে হবে সে-সম্পর্কে, উদ্যোক্তা হওয়ার উপায় কি? যাদের রাত ২টায় বিছানায় এবং ভোর ৬টায় ঘুম থেকে কাজের দিকে মনোনিবেশ করার মতো মন-মানসিকতা আছে কেবল তাদের জন্যই নিচের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস।

 

উদ্যোক্তা হওয়ার সপ্ন দেখুন

সবসময় যেকোনো পরিস্থিতিতে সফল উদ্যোক্তাদের উক্তিগুলো আপনার ডেস্কে রাখুন। বারবার এসব উক্তি যেনো আপনার চোখে পড়ে সে ব্যবস্থা করুন। তাদের অনুপ্রেরণাদায়ক উক্তি গুলো নিজের মাঝে ধারণ করুন। আপনার উদ্যোগকে সফল করার জন্য আপনি আরো বেশি করে এ-ব্যাপারে রিসার্চ করুন।

 

পরিকল্পনা করুন

উদ্যোক্তা জীবনে পরিকল্পনা ছাড়া কিছুই করা যায় না। আপনি সঠিক এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন মানেই আপনি সফলতার পথে হাঁটার রসদ জোগাড় করে ফেলেছেন। তবে উদ্যোগকে সফল করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সময় নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এতে করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সহজ হবে।

বিজনেসে সফল হতে চান? জেনে নিন বিজনেস প্লান লেখার নিয়ম

 

অভিজ্ঞতা অর্জন করুন

কাজটি খুব কঠিন! আবার সহজও বটে! তবে একটি টিপস ফলো করলে ইজিলি কাজটি করা সম্ভব। আর সেই টিপসটি হলো একটি পুরো উদ্যোক্তা প্রজেক্ট নিয়ে রিসার্চ করা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সার্ট-আপ কোম্পানিতে পার্ট টাইম কাজ করার ব্যাপারটি খুবই পারফেক্ট। পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোক্তা সম্পর্কিত নানা ধরনের কর্মশালায় যোগ দেওয়ার ব্যাপারটিও মন্দ নয়।

 

ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে জানুন

ব্যবসায়-বাণিজ্যে উন্নতি লাভ করে টিকে থাকতে চাইলে ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে জানুন, বুঝুন। এক্ষেত্রে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের পরিপ্রেক্ষিতে জাতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, ভােক্তাদের মনােভাব, মানব সম্পদ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়েও ভাবুন। আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কোন কোন সেক্টরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তা রিসার্চ করুন।

 

মূলধন জোগাড় করুন

একটি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন এবং ব্যবসা পরস্পর সংযুক্ত থাকায় এই কাজটি যথেষ্ট সেনসিটিভ। এক্ষেত্রে নিজের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার বিশদ বিবরণ তৈরি করে তা থেকেই মূলধন ম্যানেজ করার চেষ্টা করতে হবে। নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে মূলধন নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না।



 

সাপ্লাই নেটওয়ার্ক তৈরি করুন

পৃষ্ঠপোষক গ্রুপ, পরামর্শক, অংশীদার, মিত্র এবং নানান বিক্রেতার মাঝেমধ্যে আলপা করুন। এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখা ভালো ইভেন্ট গ্রুপে উপস্থিত থাকাকালে অন্যদের ব্যবসা সম্পর্কে জানতে সুবিধা হয়। আপনি চাইলেই এই সুযোগও নিতে পারেন।

 

প্রচার করুন

নিজের উদ্যোক্তার জীবনের প্রচার করুন। এতে আপনার প্রোডাক্ট এডভাটাইজিংয়ের ব্যাপারটিও একসাথে করা হয়ে যাবে। মনে রাখবেন ৮০% উদ্যোক্তার ব্যর্থ হওয়ার কারণ হচ্ছে হার মেনে নেয়া। সুতরাং সেল করতে না পেরে বসে পড়বেন না যেনো! 

“সবশেষে লেগে থাকার মন-মানসিকতা গড়ে তোলার চেষ্টা করুন”

 

সৃজনশীল উদ্যোক্তা হয়ে উঠার টিপসগুলি কি কি?

এবার আমরা জানবো সৃজনশীল উদ্যোক্তা হয়ে উঠার টিপসগুলি কি কি হতে পারে সে-সম্পর্কে! কেবল উদ্যোক্তা হতে পারলে সৃজনশীল উদ্যোক্তা কিন্তু খুব কম মানুষই হতে পারে। তবে যারা হতে পারে তাদের জনপ্রিয়তা থাকে তুঙ্গে! চলুন এক নজরে দেখে নিই সৃজনশীল উদ্যোক্তা হয়ে উঠার টিপসগুলি কি কি!

  • খুব সহজেই এবং কম সময়ে একটি নতুন পন্যের পরিচয় উদ্ভবন করতে পারা
  • কাজ করতে করতে হঠাৎ উৎপাদনের একটি নতুন পদ্ধতি শুরু করতে সক্ষম হওয়া
  • অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতার বিচারে একটি নতুন বাজারের উদ্ভাবন করা
  • প্রোডাক্ট সরবরাহের একটি নতুন উৎস বের করতে পারা
  • সর্বোপরি একটি নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে শুরু করতে পারা

 

শেষ কথা

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে আপনিও চাইলে সঠিক টেকনিক ফলো করে নতুন একটি উদ্যোক্তা জীবন শুরু করতে পারেন। মনে রাখবেন উদ্যোক্তারা যখন তাদের উদ্যোগ শুরু করে তখন তাদের সাথী হয় লেগে থাকার মন-মানসিকতা এবং বিভিন্ন সমস্যা! আর এই দুটো সাথী যখন একসাথে একজন উদ্যোক্তাকে সঙ্গ দিবে তখন সফলতা নিশ্চিতই বলা চলে!

Facebook Comments
Md Shamim Mia
বর্তমানে দেশীয় একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সিতে চাকুরিরত। টুকটাক লেখালেখির পাশাপাশি অনলাইন পেশার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। নিজের সামান্য অভিজ্ঞতা থেকে সবাইকে ফ্রিল্যান্সিং পেশার সঠিক পথটা দেখাতে চাই। আশাকরি পাশে থাকবেন, দোয়া রাখবেন
https://freelancingtherapy.com
Top